
বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্যের মধ্যে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে একটি উচ্চ-পর্যায়ের কূটনৈতিক সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। শুল্ক, তেল আমদানি এবং কৌশলগত নীতিগত মতবিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনার পর উভয় দেশ যখন সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জাতীয় রাজধানীতে পৌঁছানোর আগে রুবিও কলকাতায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেন, যেখানে তিনি ‘মিশনারিজ অফ চ্যারিটি’ পরিদর্শন করেন এবং মাদার টেরেসার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বৈঠকের আগে সাংস্কৃতিক প্রচারের সঙ্গে কৌশলগত কূটনীতিকে মেলানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে এই প্রতীকী সফরটিকে দেখা হচ্ছিল।
তাঁর এই সফরকালে রুবিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই আলোচনায় জ্বালানি সহযোগিতা, ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং দুই দেশের মধ্যে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে চলমান আলোচনার ওপর আলোকপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আসন্ন কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। এই শীর্ষ সম্মেলনে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খল এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যেহেতু নয়াদিল্লি একটি বহু-সংযুক্ত পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখেছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পৃক্ততা রাখছে, তাই রুবিওর ভারত সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতের রুশ অপরিশোধিত তেল ক্রয় এবং বাণিজ্য-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন উদ্বেগ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়িয়েছে, যা বর্তমান কূটনৈতিক উদ্যোগকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো ভারত-মার্কিন সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, কারণ উভয় পক্ষই অর্থনৈতিক স্বার্থ, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করছে।
India
India
India
India